মোঃ ফয়সাল হোসেন কয়রা উপজেলা
প্রতিনিধি:
আমরা কিছু জানিনা সব করেছে (ইউএনও) স্যার
খুলনার কয়রা উপজেলায় সরকারি ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬’ কার্যক্রমে জনবল নিয়োগকে ঘিরে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
আবেদনের সময়সীমা নিয়ে জটিলতা, গভীর রাতে ভাইভা পরীক্ষা গ্রহণ এবং ফলাফল প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগের ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও সাধারণ আবেদনকারীরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশের পর কয়রা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক মো. ইউনুস আলী তার নিজস্ব ফেসবুক একাউন্টে লিখেছেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এর ফলাফল রাত তিনটা পর্যন্ত ভাইভা নিয়ে নাটক করার দরকার কি ছিল? সরাসরি নেতার সুপারিশ বাস্তবায়ন করতেন।
আরেক কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসানও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তার ফেসবুক একাউন্টে ইউএনওকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ফাজলামির একটা লিমিট থাকে। মেধাবী বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ২/১ জনের কথা মতো যা সিলেক্ট আপনি করলেন। এটা সম্পূর্ণ বেমানান। এছাড়া পাপিয়া সুলতানা নামে এক আবেদনকারী মন্তব্য করেন, সবাই রাজনৈতিক খেলা চলছে ভাইয়া।
নিয়োগের আগে হুমকির অভিযোগ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালে কয়রা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মেহেদী হাসান সবুজের একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়েও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে অশালীন ও হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই পোস্টের পরও মেহেদী হাসান সবুজ শেষ পর্যন্ত কয়রা সদর ইউনিয়নের সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তার দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই নিয়োগ পেয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তি ও ভাইভা নিয়ে প্রশ্ন আবেদনকারীদের অভিযোগ, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গত ২৩ জুলাই প্রকাশ করা হলেও সেখানে ২১ জুলাইয়ের তারিখ উল্লেখ ছিল। আবেদনের শেষ সময় ২৬ জুলাই নির্ধারণ করা হলেও ২৪ ও ২৫ জুলাই সরকারি ছুটি থাকায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়ন নিয়ে অনেক প্রার্থী সমস্যায় পড়েন বলে অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে ২ থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত টানা কয়েক রাত গভীর রাত পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাত ৩টা পর্যন্ত ভাইভা নেওয়া হয়েছে বলেও আবেদনকারীরা দাবি করেছেন।
এ ছাড়া চূড়ান্ত ফলাফল শিটে ১৪ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা হলেও সেটি ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়। এ সময়ের ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন প্রার্থী।
বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় পরিচয়ের অভিযোগ
নিয়োগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ পেয়েছেন, এমন অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়রা সদর ইউনিয়নে মেহেদী হাসান সবুজ এবং মহারাজপুর ইউনিয়নে হারুন অর রশীদ সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত হয়েছেন।
মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের সুপারভাইজার রোকনুজ্জামানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।