মো: আরিফ হোসেন, দিঘলিয়া খুলনা:
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজার এলাকায় কেরাম বোর্ড খেলার আড়ালে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পাশাপাশি গভীর রাত পর্যন্ত এসব আসরে অর্থের বিনিময়ে খেলা চলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের একটি অংশ এসব আসরে জড়িয়ে পড়ায় সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বারাকপুর ইউনিয়ন, গাজীরহাট ইউনিয়ন, সেনাটি ইউনিয়ন এবং দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন চায়ের দোকান ও বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় নিয়মিত কেরাম বোর্ডের নামে অর্থের বিনিময়ে খেলা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুতিকুল বাজার, মাদ্রাসা মোড়, পানিগাতী, পানি বটতলা, বকুলতলা বাঁশের হাট, হাজিগ্রাম পোলের বাজার, বেলেঘাটা মোড়, পথের বাজার মাঞ্জারের বটতলা, ফরমাইশখানা, মোড়ল মার্কেট, তেঁতুলতলা মোড়, ব্রক্ষগাতী এলাকার নিখিল ঠাকুরের বাড়ির সামনের এলাকা, কেবল খেয়াঘাট, বারাকপুর বাজার মোড়, নন্দন প্রতাপ, আড়ুয়া, কামারগাতী মোড়, দেয়াড়া কলোনী, সেনাটি ইউনিয়নের চন্দনী মহল বাজার, চন্দনী মহল খেয়াঘাট, বগদিয়া স্কুল মোড়, ২ নম্বর স্টার গেট, বড়ইতলাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের জুয়ার আসর বসছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব আসরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়। অনেক যুবক ও শ্রমজীবী মানুষ সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় জুয়ায় জড়িয়ে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে অনেক পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং সামাজিক নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে তারা জানান।
সচেতন মহলের মতে, কেরাম একটি বিনোদনমূলক খেলা হলেও অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত হলে তা জুয়ার রূপ নেয়, যা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।