দিঘলিয়া খুলনা প্রতিনিধি।
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়ন এর মাঝিরগাঁতি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জমি দখল,মাদক ব্যবসা ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত।
৩ রা অক্টোবর সকাল ১০টায় দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট ইউনিয়ন এর মাঝিরগাঁতি বাজারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যুবদল নেতা মোঃ জিল্লুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলা, মাদক ব্যবসা, পুলিশের উপর হামলা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে মুন্সি গং এর বিরুদ্ধে । অভিযুক্তরা উক্ত এলাকার বাসিন্দ সুমন, তৈয়ব,কাজল,সোহাগ, সহ একদল সন্ত্রাসী, এ বিষয়ে জিল্লুর রহমান উল্লেখ করেন উক্ত সন্ত্রাসী বাহিনী হামিম মোল্লা, ঠান্ডা মোল্লা এদের সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এ ধরনের কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে।
বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তার চাচা বুলু শিকদার এর কাছ থেকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরও টাকা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এরপর তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় মামলা হয়, তিনি আরও উল্লেখ করেন উক্ত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঝিরগাঁতি বাজার এলাকায় গেলে পুলিশের একজন কর্মকর্তা ও কয়েকজন কনস্টেবল আহত হন।
এ ঘটনায়ও পরবর্তীতে মামলা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর একটি তুচ্ছ ঘটনা কে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান ওই যুবদল নেতা। তার দাবি, তার এক চাচাতো ভাই দুধের ব্যবসার কাজে একটি এলাকায় গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি মাথায় আঘাত নিয়ে কোনো মতে সেখান থেকে পালিয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নেন।
এ সময় তার সঙ্গে থাকা দুধের কলস ও ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে উক্ত জিল্লুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালাবে মুন্সি গং বলে জানতে পারে, এবং হামলার আশঙ্কার কথা স্থানীয় ক্যাম্প ও প্রশাসন কে জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
তার অভিযোগ, পরদিন সকালে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একদল লোক তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় স্থানীয় মাঝিরগাঁতির লোকজন তাদের সঙ্গে নিয়ে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন।
পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ঘটনায় উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহত চারজন কে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ওই যুবদল নেতা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং এলাকার বিভিন্ন অনিয়ম ও চাঁদাবাজির বিষয়ে দলীয় নেতৃবৃন্দ কে অবহিত করে আসছেন। তার অভিযোগ রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে একটি পক্ষ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে ঘটনাগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জিল্লুর রহমান আরও বলেন মাঝিরগাঁতি এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা বন্ধ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে,
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষের নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আতঙ্ক ও অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন। এর ফলে অনেকে বাড়িঘর ছেড়ে ভারতে চলে যাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন কে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি আরও বলেন আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষ হিন্দুরা যাতে এদেশে নিরাপদে ও ভালোভাবে বসবাস করতে পারে, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা এলাকায় কোনো ধরনের অশান্তি চাই না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাজারিগাতি এলাকার একটি পক্ষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার দাবি, গাজীরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ মাদক ব্যবসা বিস্তারের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
যুবদল নেতা দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতীতে অভিযানের চেষ্টা করলেও কথিত প্রভাবশালী একটি পক্ষের কারণে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এমনকি অতীতে একটি ক্যাম্পের এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ওই পক্ষের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ তার কাছে রয়েছে এবং এসব বিষয় তিনি সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে জানিয়েছেন।
স্থানীয় যুবদল নেতা জিল্লুর রহমান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকায় বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসুক। কোনো মানুষ যেন ভয় বা আতঙ্কে নিজের বসতভিটা ছেড়ে যেতে বাধ্য না হয়—প্রশাসনকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।