দিঘলিয়ায় জাল দাখিলা দিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা, হাতেনাতে ধরা
দলিল লেখক ও গ্রহীতাকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ ইউএনওর
দিঘলিয়া খুলনা প্রতিনিধি:
খুলনার দিঘলিয়ায় জাল দাখিলা (ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রসিদ) ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রি করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
জমি রেজিস্ট্রির সময় বিষয়টি হাতেনাতে শনাক্ত করেন দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তুপা বসু। এ ঘটনায় দলিল লেখক ও জমির গ্রহীতা জাকির নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন দাস গুপ্ত। এবিষয়ে খবর নিয়ে জানা যায় উক্ত জমি বিক্রেতা / দাতা লাখোহাটি গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল গাজী গং এবং গ্রহীতা ছিলেন একই গ্রামের বাসিন্দা শেখ জাকির হোসেন জমির পরিমাণ উল্লেখ ছিল ৫ শতাংশ যার শ্রেনী উল্লেখ ছিল বিলান। এবং উক্ত জমি ক্রয় বিক্রয় এবং রেজিস্ট্রির দায়িত্বে ছিলেন দলিল লেখক মোড়ল মফিজুর রহমান।
জানা গেছে, গত ৭ ই অক্টোবর বুধবার এ ঘটনা ঘটে।দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি জমি রেজিস্ট্রির কার্যক্রম চলাকালে দাখিলাটি যাচাই করতে গিয়ে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে সাব-রেজিস্ট্রার তুপা বসু বিষয়টি শনাক্ত করেন। এ সময় জাল দাখিলা ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টার বিষয়টি সামনে আসে।
ঘটনাটি জানার পর সাব-রেজিস্ট্রার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাস গুপ্ত কে অবহিত করেন। ইউএনও বিষয়টি জেনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সাব-রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে দিঘলিয়া সাব-রেজিস্ট্রার তুপা বসুর সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জাল দাখিলার বিষয়টি তিনি রেজিস্ট্রির সময় ধরতে পেরেছেন। তার কাছে দলিল লেখক ও গ্রহীতা জাকির ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি। কিন্তু যেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনি ব্যবস্থা গ্রহন এর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সেখানে শুধু ক্ষমা চাইলেই কি সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে??
অন্যদিকে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দলিল লেখক মোড়ল মফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমি জালিয়াতির বিষয়টি অবগত নই। দাখিলা জাল হওয়ার বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রার স্যার ধরেছেন।”
এ বিষয়ে দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন দাস গুপ্ত বলেন, “সাব-রেজিস্ট্রার আমাকে বিষয়টি জানালে আমি তাকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।”
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্রে জালিয়াতির অভিযোগ উঠলে শুধু ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে, নাকি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, জাল দাখিলা ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা সফল হওয়ার আগেই বিষয়টি শনাক্ত হওয়ায় দলিলটি রেজিস্ট্রি হয়নি। তবে এ ঘটনায় দলিল লেখক মোড়ল মফিজুর রহমান ও গ্রহীতা জাকিরের ভূমিকা কী ছিল এবং জাল দাখিলা তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনার পর সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে এ ঘটনায় কী ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের নজরে রয়েছে।